ডিভোর্স পরবর্তী গল্প ১

এস কে বাবুল

ঢাকায় একটি বেসরকারী ব্যাংকে চাকরী করতেন দিলরুবা। বিয়ের দু’বছর পর স্বামীর সাথে ডিভোর্সের পর একাই থাকতেন। বাচ্চা কাচ্চা নেই। মোটামুটি সুন্দরী মহিলা ছিলেন। প্রতিদিন ব্যাংকে যাওয়া আসার সময় কথা হতো ব্যাংকের গেইটের পাশে পান দোকান্দার রমিজ ব্যাপারীর সাথে। একে অপরের কুসল বিনিময়ে করতে করতে পান খাওয়া টা ও শিখে নেয় দিলরুবা। আস্তে আস্তে সম্পর্ক গড়তে থাকে অন্য দিকে। দিলরুবা র দরকার ছিলো একজন জীবন সঙ্গী। আর রমিজ এর দারকার ছিলো টাকা। যদি ও রমিজ এর বৌ ছেলে মেয়ে আছে, কিন্তু রমিজ সব কিছু গোপন রেখে প্রণয় চালিয়ে যায় দিলরুবা’র সাথে। দিলরুবা কে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখিয়ে রমিজ চলে যায় দিলরুবা’র মনের গভীরে। পান দোকান ছেড়ে বড়ো করে একটা গার্মেন্টস দোকান দিবে রমিজ। কিন্তু টাকা নেই। দিলরুবা’র কাছে ডিভোর্সের টাকা সহ দুই লাখ টাকা ছিলো। দিলরুবা নিজের নামে ব্যাংক থেকে আরো দুই লাখ টাকা লোন করে দিলো। রমিজ টাকা নিয়ে দিলরুবা কে বললো নতুন দোকান শুরু করার আগে গ্রাম থেকে বাবা মায়ের দোয়া নেওয়ার দরকার। তুমি থাকো, আমি একদিনের জন্য গ্রামে যাই। দিলরুবা বললো আমি ও তোমার সাথে যাবো। তোমার বাবা মায়ের সাথে থেকে একবারে বিয়ে করে তার পর আসবো।
একথা শুনে রমিজ চিন্তায় পড়ে গেল। দিলরুবা ও নাছোড়বান্দা সে যাবেই। বাধ্য হয়ে দিলরুবা কে সংগে নিয়ে রমিজ রওনা হলো নিজ গ্রাম বরিশালে। লঞ্চে গেলে দিনের বেলায় পৌছাবে, মানুষে দেখে ফেলবে, তাই দিনের বেলায় সড়ক পথে রওনা হলো, রাতে গিয়ে পৌঁছাবে। রাত পৌনে বারোটায় রমিজ বাড়িতে পৌঁছে গেলো। সকলেই ঘুমিয়ে আছে। রমিজ তার স্ত্রী কে ডেকে উঠালো। দিলরুবা সব বুঝতে পেরে হৈচৈ শুরু করলো, বলল হারামি এখন ই তুই আমার টাকা দিয়ে দে,, আমি এখন ই চলে যাবো। নইলে সকালে তোকে আমি পুলিশে দিবো। রমিজ ও তার স্ত্রী দিলরুবা কে অনেক চেষ্টা করেও শান্ত করতে পারলো না। শেষ মেষ দুই জন মিলে বালিশ চাপা দিয়ে গলা টিপে হত্যা করলো দিলরুবা কে। হত্যার পর দিলরুবার লাশটি টয়লেটের স্লাব উঠিয়ে হাউজের ভিতরে ঢুকিয়ে দিলো। রমিজ ও তার স্ত্রী বেশ খুশি হলো আপোদ বিদায় ও নগর চার লাখ টাকা আরো কিছু স্বর্ন পেয়ে গেল। চার পাঁচ দিন পর রমিজ এর পাশের বাড়িতে একটা নারিকেল গাছ কাটতে চারজন শ্রমিক আসলো, নারিকেল গাছ থেকে রমিজ এর টয়লেট বেশি দুরে নয়। দিলরুবা র লাশটি পচে খুব বেশি দুর্গন্ধ বের হচ্ছিলো। দুর্গন্ধে শ্রমিক গুলো কাজ করতে পারছিলো না ‌। শ্রমিক গুলো এদিক ওদিক খোঁজা খুঁজি করে দেখে রমিজ এর ঐ টয়লেট থেকে গন্ধ বের হচ্ছে। একজন শ্রমিক কাছে গিয়ে দেখে মহিলাদের কাপড়ের অংশ দেখা যাচ্ছে। সকল শ্রমিক কাছে গিয়ে দেখলো। নিল শাড়ির আঁচলের অংশ দেখা যাচ্ছে। সাথে এতো গন্ধ। নিশ্চয়ই এখানে কোন গরবর আছে, একজন শ্রমিক পুলিশে খবর দিলে দ্রুত পুলিশ এসে দিলরুবা র গলিত লাশ উদ্ধার করে। লাশের সুরতহালের সময় দেখা গেলো পলিথিন পেপার দিয়ে মোড়ানো ছোট একটা চিঠি লাশের কোমরে , চিঠিতে দিলরুবা লিখেছিলো যে, আমার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়ার পর ও যখন আমাকে বিয়ে করেনি , রমিজ এর কথা বার্তায় আমার সন্দেহ হয়েছে, হয়তো রমিজ আমার কোন ক্ষতি করতে পারে। আমি ঢাকা থেকে রমিজের সাথে রমিজের বাড়িতে বরিশাল যাচ্ছি। আমার যে কোন সমস্যার জন্য রমিজ দায়ী থাকিবে। দিলরুবার চিঠির সাথে ছিলো তার কর্মরত ব্যাংকের আই ডি কার্ড।
রমিজ ও তার স্ত্রী কে পুলিশ লাশের সংগেই নিয়ে গেলো।
বিঃদ্রঃ– দিলরুবা’র এই ঘটনায় দিলরুবা মরে গেলো রমিজ ও তার স্ত্রী’র মৃত্যু দন্ড হলো, রমিজের দুই সন্তান এতিম ও রমিজের বৃদ্ধ বাবা মা হলো সন্তান হারা সেই সাথে ধ্বংস হলো জীবন সংসার। এসব কিছুর দায়ী কে ? আমার মনে এর দায়ী একটি ডিভোর্স। দিলরুবা’র ডিভোর্স না হলে এতো কিছু হতো না। যা কিছু ঘটেছে ডিভোর্সের পর।
অত এব ,
আর নয় ডিভোর্স!!!
একটি ডিভোর্স একাধিক জীবনের কষ্ট।
ডিভোর্স কে রূখে দিন ডিভোর্স কে না বলুন।
সুপ্রিয়