এস কে বাবুল

বেশ কিছুদিন ধরে মানুষের মুখে একটা কথা শুনছি, আর তা হলো আমার দেশের কিছু কিছু এলাকায় বিয়ের নামে পরের বাড়ীতে খাওয়ার রিহিক পড়েছে। ঘটনা কতটা সত্য জানিনা। শুনেছি বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের প্রচুর সংখ্যক লোককে ( বরযাত্রী) খাওয়াতে হবে। আর সব খরচ বহন করবে মেয়ের বাবা। মেয়ের বাবার বহুসংখ্যক লোক খাওয়ানোর সামর্থ্য আছে কি না সেটা দেখা হয় না। কোন কোন বিয়েতে নাকি ৫০০-৮০০-১০০০ জন যাত্রী আসে আবার খাবারের মেন্যুটা না কি ছেলে পক্ষই ঠিক করে দেয় যে, তাদের কি কি খাওয়ানো হবে। তবে হ্যাঁ যার টাকা আছে তার কাছে কোন ব্যাপার নয়। ৫০০ নয় ৫০০০ লোক ও খাওয়াতে পারে। কিন্তু সবার তো আর এমন ভাবে সম্ভব নয়। তাই আমার মনে হয় প্রতিটা বিয়ের সময় ছেলে পক্ষ কে ভেবে নেওয়া উচিত যে, মেয়ের বাবার কতটুকু সামর্থ্য আছে। কারণ বরযাত্রী একদিনের জন্য , কিন্তু আত্মীয় (মেয়ের বাবা) একদিনের জন্য নয়। তাকে সচল রেখে সারাজীবন খাওয়া যায়। সেই সংগে দিতে হবে ছেলের ঘরের সকল আসবাবপত্র। আবার অনেকের মধ্যে চলে অঘোষিত যৌতুকের বায়না। বিয়ের একদিন অথবা পর নতুন বর যখন নতুন বধূকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাবে, আর সংগে নিয়ে যাবে নিজের আত্মীয় স্বজন, আবার দুদিন ভালো করে খাওয়া-দাওয়া শেষে আত্মীয় স্বজন সহ সকল কে দিতে হবে পোশাক- গিফট। এর পর রমজান মাস এলেই কনের বাড়ি থেকে ছেলের বাড়িতে দিতে হবে পর্যাপ্ত ইফতার সামগ্রী, যা ছেলের আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশীরা ও খাবে। ঈদের সময় দিতে হবে পশু সহ চোদ্দ গোষ্ঠীর পোশাক। চট্টগ্রামের কয়েকজনের কাছে এই বিষয় গুলোর সত্যতা জানতে চেয়ে আরো অনেক বেশি বর্ননা পেলাম।
যারা ছেলে বিয়ে দিবেন, আর যে বিয়ে করবেন- অর্থাৎ যে যখনই ছেলে পক্ষ হবেন, ভাববেন না যে, আপনি আগামীতে মেয়ে পক্ষ হবেন না। অত এবং অন্যকে কষ্ট দেওয়ার আগে নিজের কথা ও ভেবে নিন। ছেলে পক্ষ হয়ে যাকে আপনি কষ্ট দিবেন, সে আপনার সারাজীবনের সুখ দুঃখের সাথে থাকবে। আর নিজের আত্মীয় কে কষ্ট দিয়ে যাদের খাওয়াবেন, তাদের মধ্যে সবাই কিন্তু আপনার দুঃখের সাথে থাকবে না।
প্রিয় ভাই ও বোন ও বন্ধুরা — আপনারা যারা কোন বিয়েতে বরযাত্রী হয়ে জাবেন, অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেন অতিরিক্ত না হয়, অতিরিক্ত হলে নিজ নিজ ইচ্ছায় যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত বরযাত্রী হয়ে একদিন খেয়ে মেয়ের বাবা কে সারাজীবনের জন্য কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
বিঃদ্রঃ :- সকলেরই বুঝা উচিত যে, একটা ছেলের চেয়ে একটা মেয়ে কে লালন পালন করতে মেয়ের বাবা মায়ের অনেক কষ্ট করতে হয়। তার পর সারাজীবনের জন্য মেয়ে অন্য বাড়িতে দিয়ে দেওয়া তো আরো কষ্টকর যে দিয়েছে, সেই জানে, এর যদি অর্থ নৈতিক ভাবে ও তাদের অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া হয়, তাহলে তাদের অবশিষ্ট সান্ত্বনা হিসাবে কি থাকবে বলুন!!!!!
(( অতিরিক্ত বরযাত্রীর খানায় মেয়ের বাবার কষ্টের দীর্ঘশ্বাস থাকে, তাই চলুন আমরা ঐ খানা বর্জন করে বরযাত্রী মাত্র ১০ জন হয়ে যাই ))
অতিরিক্ত বরযাত্রী নয়
দশজন হলে বিয়ে হয়
সুপ্রিয় বন্ধুরা-
আমার লেখার মাঝে কোন ভুল ভ্রান্তি হলে
অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
আপনার সহানুভূতি ও পরামর্শ একান্ত কাম্য।
WHATSAPP+IMO- +971559391375
EMAIL:- skbabulbd@gmail.com
WEBSITE :- https://skbabulbd.art.blog
